সর্বশেষ

Monday, 28 March 2022

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মহানুভবতা : ত্রিপুরা পল্লীতে ৫০ বছর পেলো ‘ককবরক’ মাতৃভাষার স্কুল

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মহানুভবতা : ত্রিপুরা পল্লীতে ৫০ বছর পেলো ‘ককবরক’ মাতৃভাষার স্কুল


 শরিফুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা উত্তর ঃ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরাদের ককবরক ভাষা রক্ষার জন্য ভাষার মাসে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ী এলাকায় ‘ত্রিপুরা পল্লী ককবরক মাতৃভাষা স্কুল’ নির্মাণের কাজ চলতি বছরের গত ২১ ফেব্রুয়ারী শুরু করা হয়েছিলো। এখন এখানে বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায় ৫০ বছর পর তাদের নিজেদের মাতৃভাষার স্কুল পেয়েছে।

গত রবিবার বিকালে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতির নাচে গানে এ স্কুলটি উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ কুমিল্লার উপ-পরিচালক শওকত ওসমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবুল, স্থানীয় ২৪ নং ওয়ার্ডের সিটি কাউন্সিলর মো. ফজল খান। সভাপতিত্ব করেন সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিষ ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শালমানপুর ত্রিপুরা উপজাতি কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি সজীব চন্দ্র ত্রিপুরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমাই পাহাড়ের শালমানপুর, জামুড়া, বৈষ্ণবমুড়া ও সদরের হাদকপুরে ৯৮টি ত্রিপুরা সম্প্রদায় পরিবারে প্রায় ৪০০ লোক বসবাস করে। কালের বিবর্তনে ত্রিপুরা অধ্যুষিত এই এলাকায় এখন এই সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাদের ভাষা রক্ষার জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ‘ত্রিপুরা পল্লী ককবরক মাতৃভাষা স্কুল’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে (একুশে ফেব্রুয়ারী) স্কুলটির নির্মাণকাজের সূচনা করেন সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ। এদিন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা সেখানে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনারও তৈরি করে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।


ককবরক স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মনিন্দ্র চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ‘ককবরক ভাষাটি তিপ্রাকক বা ত্রিপুরি ভাষা নামেও পরিচিত। ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্য এবং বাংলাদেশে বসবাসরত ত্রিপুরি জাতির লোকদের মাতৃভাষা। নতুন প্রজন্মের কাছে এখন এই ভাষার আর অস্তিত্ব নেই। তেমন বইপুস্তকও নেই। তবে খাগড়াছড়ী এলাকায় স্বল্প পরিসরে এই ভাষা নিয়ে গবেষণা চলছে। আমাদের মাতৃভাষা (ককবরক) রক্ষার জন্য এই প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে কৃতজ্ঞ।’

সদর দক্ষিণ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু জানান, ‘ভাষার চর্চা না থাকার কারণে ক্রমেই বিশ্বের অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ককবরক ভাষাও হারিয়ে যেতে বসেছে। এই ভাষা রক্ষার জন্য স্কুল নির্মাণে প্রশাসনের উদ্যোগ অনুকরণীয় ও ব্যতিক্রম।’

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ জানান, ‘ককবরক’ শব্দটি দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। কক অর্থ ‘ভাষা’ আর বরক অর্থ ‘মানুষ’, বিশেষিত অর্থে ত্রিপুরি জাতির মানুষ; অর্থাৎ ককবরক কথাটির অর্থ ত্রিপুরি মানুষের ভাষা। নতুন প্রজন্মের কাছে ককবরক ভাষাটি যথার্থভাবে পৌঁছে দিতে এবং বিলুপ্তপ্রায় এ ভাষাটিকে রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এই স্কুলের নির্মাণকাজ শুরু করে তা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ‘ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ‘ককবরক’ শেখার লিখিত কোনো বই এ মুহূর্তে নেই। ককবরক ভাষা শেখার বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মাতৃভাষা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। স্কুলের কাজ শেষ, এখন ককবরক ভাষায় বই প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে।’

তবে এখনো জামুড়া, বৈষ্ণবমুড়া, হাদকপুরের শিশুদের নেই মাতৃভাষা নিয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা।

Monday, 13 December 2021

‘যুবলীগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ মণি’ : শেখ পরশ

‘যুবলীগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ মণি’ : শেখ পরশ

 

‘যুবলীগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন শেখ মণি’ : শেখ পরশ

শরিফুল আলম চৌধুরী: যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি’র ৮৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ দুঃস্থদের মাঝে  শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনিএ কথা বলেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৩ ডিসেম্বর দেশব্যাপী যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ পরশ বলেন, দেশব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা ঘোষণা দিয়েছি। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সকল ইউনিটকে আহ্বান জানাবো যে, আপনারা সততা, শৃঙ্খলার সঙ্গে আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি পালন করবেন।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের চলচ্চিত্রের একটি ঐতিহ্য আছে। আপনাদের নেতা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের ওপর পত্রিকা “সাপ্তাহিক সিনেমা” পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটা বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা যা সিনেমার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা, তিনি বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টি কালচারের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন এবং সেই কারণে তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলার সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে, বাংলার সংস্কৃতিতে যুবকদের জন্য যুব শক্তি হিসেবে রূপান্তরিত করার জন্য বাংলার সংস্কৃতি বিশেষ করে চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে আমারও ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতি আছে। তিনি আমাদের সিনেমা দেখতে নিয়ে যেতেন। বিভিন্ন কালচারাল বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। আমি মনে করি আমাদের সংস্কৃতি বা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন দরকার কারণ এর ভেতরে আমাদের পরিচয় নিহিত রয়েছে।

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা সভা।

তিনি বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ আমাদেরকে যে কর্মসূচি দিয়েছেন তা পালনের মধ্য দিয়ে ৭১ এর পরাজিত শক্তিদের জবাব দিতে হবে। জবাব দিতে হবে জামাত-বিএনপিকে যারা ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্টে পাকিস্তানীদের সহায়তা করেছিল। জবাব দিতে হবে তাদের যারা দেশবিরোধী শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের উন্নয়নকে দাবিয়ে রাখার জন্য দেশীয় এবং বিদেশিরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু বাংলার যুব সমাজ, বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন, সকল ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে এগিয়ে যাবে যুবলীগ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, ডা. খালেদ শওকত আলী, শেখ ফজলে ফাহিম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ইঞ্জি. মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজ উদ্দিন আহমেদ, মোঃ জসিম মাতুব্বর, মোঃ আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহাম্মদ বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোঃ মাজহারুল ইসলাম, মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ, মোঃ জহির উদ্দিন খসরু, মোঃ সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মোঃ শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম মিল্টন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শামছুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর মোঃ মহি উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এড. মুক্তা আক্তার, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি স্মরণ, উপ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফিরোজ আল-আমিন, উপ-কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোল্লা রওশন জামির রানা, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদ্য, সহ-সম্পাদক আবির মাহমুদ, তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল, গোলাম ফেরদৌস ইব্রাহিম, মোঃ আবদুর রহমান জীবন, নাজমুদ হুদা ওয়ারেছী চঞ্চল, মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর হোসেন শাহ জয়, মোঃ বাবলুর রহমান বাবলু, আহতাসামুল হাসান ভূইয়া রুমি, মোঃ মনিরুজ্জামান পিন্টু, মোঃ মনিরুল ইসলাম আকাশ, বর্ষন ইসলাম, মোঃ মুজিবুর রহমান, ইঞ্জি. মোঃ মুক্তার হোসেন চৌধুরী কামাল, এড. মোঃ শওকত হায়াত, ইঞ্জি. মোঃ আসাদুল্লাহ তুষার, মানিক লাল ঘোষ, মোঃ মোবাশ্বার হোসেন স্বরাজ, মোঃ মুজিবুর রহমান মুজিব, মোঃ তারিখ আলম মামুন, ইঞ্জি. মোঃ শহিদুল ইসলাম সরকার, ডাঃ মোঃ আওরঙ্গজেব, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজাসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

Tuesday, 7 December 2021

প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন আক্রমণ: কুমিল্লায় আলালের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার  জিডি

প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন আক্রমণ: কুমিল্লায় আলালের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জিডি

প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন আক্রমণ: কুমিল্লায় আলালের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার  জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে আলালের বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতে গিয়ে আলাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে অশালীন আক্রমণ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় রীতির প্রতি ইঙ্গিত করেও আপত্তিকর বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানায় এই অভিযোগ করেন সেই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি এর আগে গত ২০১৬ সালের ১৩ মে কুমিল্লার আদালতে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করায় একটি মানহানি মামলারও বাদী।


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে আলালের বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতে গিয়ে আলাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে অশালীন আক্রমণ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় রীতির প্রতি ইঙ্গিত করেও আপত্তিকর বক্তব্য রাখেন।

মুরাদের উক্তির পর বিএনপি তার পদত্যাগ দাবি করেছিল, যা এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। এখন দলটি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আলালের মন্তব্যের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

আলালের বিরুদ্ধে থানায় জমা দেয়া অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল আলম চৌধুরী লেখেন, গত ৬ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় একটি লিংকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আলালের ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের ভিডিও দেখতে পান। এটি সরকার ও দেশের জনগণের জন্য হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানিকর বলে মনে করেন তিনি।

এই ঘটনার বিষয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শরিফুল আলম চৌধুরী।

এ বিষয়ে জানতে বাদী শরিফুল আলম চৌধুরী মোবাইলে ফোনে জানান, আইন সবার জন্য সমান। মুরাদ হাসানের বক্তব্য যদি আইন বিরোধী হয় তাহলে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে যে নোংরা বক্তব্য দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে অপরাধ করেছেন তাই এর বিচার হওয়া দরকার।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাশিম বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছি। এখন এটি আমরা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠাব। তারা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

Friday, 3 December 2021

৪ ডিসেম্বর দেবীদ্বার মুক্তদিবস

৪ ডিসেম্বর দেবীদ্বার মুক্তদিবস

৪ ডিসেম্বর দেবীদ্বার পাক হানাদার মুক্তদিবস।  ১৯৭১সালের এই দিনে দেবীদ্বার পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার লক্ষ্যে দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। সকাল ১০টায় সর্বস্তরের জনতার উপস্থিতিতে উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের স্মরনে দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্তর ও গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, উপজেলা পরিষদ চত্তরে ‘হল রোমে’ আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে দেবীদ্বার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা করা হয়েছে। 

১৯৭১ সলের রক্তে ঝরা দিনগুলোতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে হানাদার মুক্ত হয়েছিল কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল। তারই ধারাবাহিকতায় দেবীদ্বার এলাকা হানাদার মুক্ত হয়েছিল ৪ ডিসেম্বর। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে ওইদিন হানাদারদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা করে। ৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ‘কুমিল্লা-সিলেট’ মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতুটি মাইন বিষ্ফোরনে উড়িয়ে দেয়। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্ড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আর.ডি হিরার নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর বুড়িচং ব্রাক্ষনপাড়া হয়ে দেবীদ্বারে আসে। হানাদাররা ওই রাতেই দেবীদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসে পালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপ দেবীদ্বার সদরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরই মধ্যে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরটি দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা রোডে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার সময় মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গুলি বিনীময় হলে মিত্রবাহিনীর ৬ সেনা সদস্য নিহত হয়। এই দিনে দেবীদ্বারের উল্লাসিত জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাসে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে মেতে উঠে। দুপুর পর্যন্ত ওইদিন হাজার হাজার জনতা বিজয় উল্লাসে উপজেলা সদর প্রকম্পিত করে তোলে।

তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট সন্নিকটে থাকায় এঅঞ্চলের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। স্বাধীনতা ঘোষনার মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই অর্থাৎ ২৯মার্চ রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরের বাইরে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সু-সজ্জিত ১৪জনের একটি দল ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে পায়ে হেটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্টে যাওয়ার পথে দেবীদ্বার এলাকায় স্থানীয় জনতার সাথে সন্মূখ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। ওই যুদ্ধে নিরস্ত্র বাংগালীরা পুরো দলটিকে পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনার গৌরব অর্জণ করে। স্বাধীনতা ঘোষনার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে রাজধানী, বিভাগীয় ও জেলা শহরের বাইরে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সু-সজ্জিত ১৪সদস্যের পাক সেনার একটি দলকে পরাস্ত করে নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের বিজয় ছিনিয়ে আনার গৌরব সম্ভবতঃ এটাই বাংলাদেশে প্রথম।

যে যুদ্ধটি ‘ভিংলাবাড়ি-জাফরগঞ্জ শ্রীপুকুরপাড় জামে সমজিদ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত এবং কাক ডাকা ভোর রাত থেকে সন্ধ্যা নাগাদ এ যুদ্ধে ১৪ পাক সেনাকে হত্যা করতে আবুল কাসেম, সৈয়দ আলী, আব্দুল মজিদ, তব্দল ড্রাইভার, মমতাজ বেগম, সফর আলী, নায়েব আলী, সাদত আলী, লালমিয়া, ঝারু মিয়া, আব্দুল ড্রাইভার, ফরিদমিয়া, আব্দুর রহিমসহ ৩৩বাঙ্গালী শহীদ ও অর্ধশতাধিক বাঙ্গালী আহত হয়েছিলেন। যে যুদ্ধে দেবীদ্বার থানার অস্ত্রাগার লুন্ঠন করে ওই লুন্ঠিত অস্ত্র এবং বঙ্গজ হাতিয়ার লাঠি, দা, সাবল এমনকি মরিচের গুড়া নামক অস্ত্রটিও শত্রæ নিধনে ব্যবহার হয়েছিল সেদিন।

১৪এপ্রিল সমতট রাজ্যের রাজধানী খ্যাত এবং হিন্দু অধ্যুসিত বরকামতা গ্রামে পাক হানাদাররা হামলা চালানোর সংবাদে কমিউনিস্ট নেতা আব্দুল হাফেজের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার বাঙ্গালী মাত্র দুটি থ্রী-নট থ্রী রাইফেল ও লাঠি নিয়ে শত্রুেসেনাদের উপরঝাপিয়ে পড়ে। রাইফেলের গুলিতে এক প্লাটুন সৈন্যেও পাঁচজন লুটিয়ে পড়লে কিংকর্তব্য বিমূঢ় পাক সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই রাতে ফিরে এসে হিংস্র হায়ানারা লুটপাট, নির্যাতনসহ অগ্নীসংযোগে পুরো গ্রামটি জ¦ালিয়ে ছারখার করে দেয়।

২৪জুন মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাখরাবাদ গ্রামে পাক হায়ানাদের এক নারকীয় হত্যাজজ্ঞে অগ্নীসংযোগ লুটপাট, নারী নির্যাতনসহ ২৪০ নিরীহ বাঙ্গালীকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং ওই দিন ২১যুবককে ধরে দেবীদ্বার ক্যাম্পে আনার পথে একজন পালিয়ে গেলেও অপর ২০জনকে দেবীদ্বার সদরে পোষ্ট অফিস সংলগ্নে ধৃতদের কর্তৃক গর্ত খুড়ে চোখ বেঁধে ব্রাস ফায়ারে হত্যা করে একজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলে বাকী ১৯জনকে ওই গর্তে চাপা দেয়া হয়। দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত আগষ্ট মাসে ওই বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়।   

৬সেপ্টেম্বর রাজাকারদের সহযোগীতায় পাক হায়ানারা বারুর গ্রামে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিলে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল সম্মূখ সমরে জয়নাল আবেদীন, বাচ্চুমিয়া, শহিদুল ইসলাম,আলী মিয়া, আব্দুস সালাম, সফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেনসহ ছয় মুক্তিযোদ্ধা শাদাত বরণ করেন ভাগ্যক্রমে অপর একজন বেঁেচ যান।

১৪ সেপ্টেম্বর দেবীদ্বার উপজেলার মহেশপুর গ্রামে পাক হায়েনাদের বিভীষিকাময় হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ ১৪ নিরীহ বাঙ্গালী।

২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নির্দেশে নারায়নগঞ্জ নৌবন্দর ধ্বংস করতে যাওয়া ১৭ সেপ্টেম্বর নৌ-কমান্ডো’র ল্যাপ্টেন্যান্ট মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে নৌকমান্ডের ৫সদস্যের একটি দল বাগিরতি নদীর তীরে ট্রেনিং শেষে দেবীদ্বার পোনরা হয়ে যাওয়ার পথে পাক সেনাদের সাথে মুখমুখী যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। এ যুদ্ধে নারায়নগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আবুবকরসহ ২জন যোদ্ধা শহীদ হন।

ওই সময় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের রাজামেহার এলাকায় মাইন বিস্ফোরনে সাত পাকসেনা নিহত হলে ওই এলাকার দু’পাশের প্রায় তিন কিলো মিটার এলাকা জ¦ালিয়ে দেয় শত্রæসেনারা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেবীদ্বার উপজেলার নলআরায় (ফতেহাবাদ গ্রামের একটি গভীর জঙ্গল) এবং ন্যাপ প্রধান এলাহাবাদ গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিতে দু’টি অস্থায়ী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ওখান থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে চলে যেত। ওই দু’টি অস্থায়ী ক্যাম্পের মধ্যে নলআরায় একটি স্মৃতিসৌধ নির্মানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

২৯নভেম্বর ভূষণা ও ধামতী গ্রামকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ ঘাটি হিসাবে চিহ্নীত করে পাক হায়ানাদের একটি বিশাল বাহিনী হামলা চালায়। ধামতী গ্রামের বিখ্যাত চৌধূরী বাড়িসহ নব্বইটি বাড়ি, ভূষণা গ্রামের ষোলটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। পাক হায়ানারা ভূষণা গ্রামের ছয় নিরিহ বাঙ্গালী ও ধামতী আলীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীর আজিমউদ্দিন সাহেবের নাতি শরিফুল্লাহ, অধ্যক্ষ হালিম হুজুরের দু’ভাগ্নে জহুর আলী ও আব্দুল বারি, সহোদর তাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামকে তাদের স্বজনদের সামনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়াও পোনরা গ্রামে (নরসিংদী জেলার) মুক্তিযোদ্ধা আবুবকর, ভিড়াল্লা গ্রামের শহীদ মজিবুর রহমানের কবর পথিকের হৃদয় এখনো আলোড়িত করে। 

এছাড়াও মুক্তি যুদ্ধে দেবীদ্বার বাসীর অবদান ছিল প্রশংসনীয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামন্ডুলীর সদস্য ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, ন্যাপ-সিপিবি-ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক গঠিত ‘বিশেষ গেরিলাবাহিনী’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কমরেড আব্দুল হাফেজ, পালাটোনা ক্যাম্প প্রধান কিংবদন্তী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সুজাত আলী, মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আজগর হোসেন মাষ্টার, সাবেক এমএনএ আব্দুল আজিজ খান, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ শাহজাহানসহ অসংখ্য কিংবদন্তী মুক্তিযোদ্ধার অবদান ছিল স্মরনীয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট দেবীদ্বারের খুব কাছে থাকার কারনে এ এলাকার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা যেমন বেশী ছিল, তেমনি রাজাকারদের সহযোগীতায় এ অঞ্চলে নারকীয় হত্যাজজ্ঞ, লুন্ঠন, নারী নির্যাতন, অগ্নীসংযোগসহ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে এ এলাকার মানুষ।

Tuesday, 2 November 2021

দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভূঁইয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভূঁইয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

 

দেবীদ্বারের প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক ছাত্রইউনিয়ন নেতা, ঢাকাস্থ দেবীদ্বার কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভূঁইয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোরশেদ আলম’র নেতৃত্বে একদল বিয়োগল বাদকের করুণ সূরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনকালে সালাম প্রদর্শন করেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান।

মরহুমের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা পিসি হাসপাল প্রাঙ্গনে। এসময় কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাসায়ী, সামাজিক সংগঠন সহ বিভিন্ন পেশার লোকজন জানাযায় অংশগ্রহন করেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার’র দ্বিতীয় জানাযার পূর্বে মরহুমের জীবন কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্ত রাখেন, প্রবীণ শিক্ষক ন্যাপ নেতা মুস্তাকুর রহমান ফুল মিয়া, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট আইনজীবি এডভোকেট গোলাম ফারুক, সচিব (অবঃ) আব্দুল হান্নান, যুগ্ম সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, মোঃ সিরাজুল ইসলাম মেম্বার, ড. একেএম ফারুক, মরহুমের পুত্র ডাঃ ইমন বাশার, কুমিল্লা জেলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ সামসুল হক, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুস সালাম নান্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা হাজী আবুল কাসেম চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, অবসরপ্রাপ্ত ভ‚মি কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম খলিল, এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র দত্ত, আলী হোসেন মন্টু, অলিউর রহমান, এলাহাবাদ আদর্শ কলেজ’র অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান বিএনপি নেতা মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার, ভিপি এনামুল হক ভ‚ঁইয়া হেলাল, ছাত্রলীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি আবু কাউছার অনিক, যুবলীগ নেতা মোঃ নুরুল আমিন প্রমূখ। সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ সোহেল আহমেদ। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাসায়ী, সামাজিক সংগঠন সহ বিভিন্ন পেশার লোকজন জানাযায় অংশগ্রহন করেন।  

মরহুমের জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র সন্তানসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান।

উল্লেখ্য তিনি হঠাৎ অসুস্থ্য হলে ঢাকা একটি প্রাইভেট হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেন, পরে পিসি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় ইন্তেকাল করেন।

Sunday, 3 October 2021

দেবীদ্বারে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক উন নবী তালুকদারের যোগদান

দেবীদ্বারে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক উন নবী তালুকদারের যোগদান

 

কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বারে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে মোঃ আশিক উন নবী তালুকদার যোগদান করেছেন। রোববার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ গিয়াস উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ইউএনও মোঃ আশিক উন নবী তালুকদারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ নবাগত ইউএনও আশিক উন নবী তালুকদারকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল আওয়াল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং দেবিদ্বার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চেযারম্যান, বেশ কিছু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুধী সমাজ এবং আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওমানি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ইকাবল হোসেন রুবেলসহ অন্যান্যরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর কথা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র দেবীদ্বারের নতুন ইউএনও আশিক উন নবী তালুকদার এর আগে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এল এ শাখা) কুমিল্লাতে কর্মরত ছিলেন। নবাগত ইউএনও আশিক উন নবী তালুকদার বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনার সন্তান।

উল্লেখ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানকে সহকারী ভুমি সংস্কার কমিশনে বদলী করা হলে এই শুন্য পদে মোঃ আশিক উন নবী তালুকদার যোগদান করলেন।

Sunday, 19 September 2021

হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু'দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ  আহত -২০

হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু'দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ আহত -২০

 

কুমিল্লার হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছে।আজ রবিবার উপজেলার ঘারমোরা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষের আহতরা হলেন,  রাজিব মিয়া, শাহ আলম,, জিলানী, অজিত, শাহ আলম, নজরুল মিয়া, কবির হোসেন, ইকবাল মিয়া, আশাবুদ্দিন, ইকবাল হোসেন, কেটা মায়া, আজগর আলী, সানাউল্লাহ, আরিফ, শুভ, জিলানি, জুয়েল, তানভীর, সাইদুল, মোমেন, বাদশা মিয়া, হৃদয়। এদের মধ্যে রাজিব মিয়া ও শাহ আলম, আলী আকবর, সাব মিয়া  শুভও মোমেন মারাত্মক আহত। এদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় উপজেলার বাগমারা গ্রামে এক ছেলের সাথে। গত শুক্রবারে বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়, গত বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে ডিজে মিউজিক চলার সময় রাতে পাশের ফজুর কান্দি গ্রামের রাসেল ইমরান, অন্তর সহ ৮/৯ জন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি উঠাতে থাকে এসময় বড়ঘারমোড়া গ্রামের কয়জন ছেলে এসব ছবি ডিলিট করতে বলে এই নিয়ে এদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এর জের ধরে গত শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের  মো. সাব মিয়া বাজারে আসলে তার দুধ মাথায় ঢেলে দিয়ে অপমান করে  এবং তাকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন ছেলে। এই ঘটনায় সাব মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে  থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ হুজুরকান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল‌ আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এ ২০ থেকে ২৪ জন আহত হয় এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন বখাটে ছেলে আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েদের ছবি উঠায় এসকল ছবি ডিলেট করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়।  শনিবার বাজারে গেলে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন  মো. সাব মিয়া নামের একজন মুরুব্বীকে মারধর করে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

আজকে সকালে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন  ইয়ারগান সহ দেশীয় অস্ত্রনিয়ে আমাদের গ্রামের লোকজন উপর হামলা করে তাদের গুলিতে দুইজন সহ ১৫ জন আহত হয়েছে।

এ দিকে হুজুর কান্দি গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, ছেলেপেলেদের মধ্যে সমস্যার ঘটনা আমরা মিটমাট করার জন্য চেষ্টা করছিলাম এই সময় বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজন ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এতে  ১০/১২ জন আহত হয়েছে। কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি। এদের ইটের আঘাতে আমাদের লোকজন আহত হয়েছে।

ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মোল্লা জানান, বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হলে একজন গ্রেফতার হয়।  আজকে  বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসারর কথাছিল।  কিন্ত এর মধ্যেই  ফজুরকান্দি ও বড় ঘারমোরা গ্রামবাসি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । আমাদের নিয়ন্ত্রণের  বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে। পরিবেশ শান্ত রয়েছে। 

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আবুল কায়েস আকন্দ জানান, বড় ঘাড়মোয় একটি বিয়ে বাড়িতে ফজুর কান্দি গ্রামের  কয়েকজন ছেলে ছবি তুললে ঐ গ্রামের লোকজন বাধা দেয় এ ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গত শনিবার একজনকে মারধর করে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে ।

এই ঘটনার জের ধরে আজ সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।